Home নির্বাচন সিসিক নির্বাচনে নৌকার প্রচারে উপাচার্য ও সরকারি কর্মকর্তারা

সিসিক নির্বাচনে নৌকার প্রচারে উপাচার্য ও সরকারি কর্মকর্তারা

1 min read
Comments Off on সিসিক নির্বাচনে নৌকার প্রচারে উপাচার্য ও সরকারি কর্মকর্তারা
0
1,328

সিলেটঃ  গত শনিবার রাত আটটা। সিলেট শহরের আম্বরখানা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকাবাহী গাড়ি থেকে তাঁর সঙ্গে নামলেন তাঁর দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও। সেখানে এক নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে ভোট চাইতে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

উপাচার্য একা নন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সিভিল সার্জন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও উপরেজিস্ট্রার, শাবিপ্রবির হিসাব পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলীসহ অর্ধশতাধিক সরকারি কর্মকর্তা কামরানের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁরা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি চাকরিবিধিও ভঙ্গ করেছেন।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণবিধির ২২ ধারার ১ নম্বর উপধারায় লেখা আছে, ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না।’ ২২ ধারার ২ উপধারায় লেখা আছে, ‘নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনী কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্র, সরকারি যানবাহন, অন্য কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণকে ব্যবহার করিতে পারিবেন না।’

শনিবার রাতের ওই নির্বাচনী সভায় শাবিপ্রবির কেমিকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং সিন্ডিকেট সদস্য মো. মস্তাবুর রহমান, জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এ কে আবদুল মোমেন, শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাসুম বিল্লাহসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

সভায় ব্যানারে লেখা ছিল, ‘জনাব বদরউদ্দিন আহমদ কামরান-এর সমর্থনে নৌকা মার্কার সমর্থনে নির্বাচনী সভা’। বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, ‘নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়টা জরুরি। সরকার আছে বলে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। নৌকাকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে। এখানে আমাদের সরকার ও আমাদের পক্ষে সমস্ত শক্তি থাকার পরেও যদি আমরা হেরে যাই, তবে তা লজ্জার হবে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের একটি ধারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের রাজনৈতিক মতামত প্রচার ও রাজনৈতিক সংগঠনে জড়িত হতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ‘চাকরির শর্তাবলী’ শিরোনামে ৫১ ধারার ২ উপধারায় লেখা আছে, ‘কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার রাজনৈতিক মতামত পোষণের অধিকার ক্ষুণ্ন না করিয়া তাহার চাকরির বিধানাবলী নির্ধারিত হইবে; তবে শর্ত থাকে যে, তিনি তাহার উক্ত মতামত প্রচার করিতে পারিবেন না বা নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সহিত জড়িত করিতে পারিবেন না।’

২৮ জুন বদরউদ্দিন কামরানের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী। তখন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে অধ্যক্ষ প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ছেলের ভোটার আইডি কার্ড আনতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তবে এবার তিনি প্রচারণায় অংশগ্রহণের ধরন পাল্টেছেন। স্বাস্থ্য খাতে সরকারের সাফল্য নিয়ে প্রচারণার আড়ালে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন তিনিসহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা।

১৮ জুলাই সিলেটের সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায়ের সভাপতিত্বে এক সভায় অধ্যক্ষ মুর্শেদ আহমদসহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এ আলোচনা সভা হয়। তাঁরা স্বাস্থ্য বিভাগে সরকারের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চান। পরে তাঁরা নৌকা মার্কায় কামরানকে ভোট দেওয়ার জন্য চৌহাট্টা ও ওসমানী মেডিকেল এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেত্রী নাজরা চৌধুরী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম গৌছ আহমদ চৌধুরী।

একই দিন সন্ধ্যায় কামরানের বাসায় নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় কামরানের এক পাশে ছিলেন শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন ও হিসাব পরিচালক আ ন ম জয়নাল আবেদীন। আর অন্য পাশে ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম সোয়েব ও শাবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। পেছনে ছিলেন শাবিপ্রবির সহকারী কলেজ পরিদর্শক তাজিম উদ্দিন ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরেজিস্ট্রার এ কে এম ফজলুর রহমান। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা তখন দর্শকসারিতে কামরানের বক্তব্য শুনছিলেন। বক্তব্য দিয়েছেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মমিনুল হক।

গতকাল রোববার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য  বলেন, ‘অর্থনীতিবিষয়ক বক্তব্য দেওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। কামরান সভাস্থলে ছিলেন না। নৌকার সমর্থনে কোনো ব্যানারও ছিল না। নৌকার সমর্থনে কোনো সভায় যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না।’

তবে রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময়ের জন্য কামরান সাহেব আমাদের ডেকেছিলেন। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কোনো প্রচারণায় অংশ নিইনি।’

শাবিপ্রবির হিসাব পরিচালক আ ন ম জয়নাল আবেদীন অবশ্য ফোন ধরেননি। শাবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে কামরান ভাইয়ের ডাকে তাঁর বাসায় গিয়েছিলাম। কোনো প্রচারণায় অংশ নিইনি।’

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রগতিশীল ঘরানার মানুষ হিসেবে তাঁর ডাকে গিয়েছিলাম। কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিইনি।’

ওই সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান  বলেন, ‘এ রকম কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো ।

 

Load More Related Articles
Load More In নির্বাচন

Check Also

সিলেট-১ এ ধানের শীষ পেলেন খন্দকার মুক্তাদির

মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দ…