Home কলাম এডভোকেট জুবায়ের জিতলে অবাক হবেন না সাংবাদিক অনুক্ত কামরুল

এডভোকেট জুবায়ের জিতলে অবাক হবেন না সাংবাদিক অনুক্ত কামরুল

24 second read
Comments Off on এডভোকেট জুবায়ের জিতলে অবাক হবেন না সাংবাদিক অনুক্ত কামরুল
0
3,126

মন্তব্য প্রতিবেদনঃ   প্রথমেই বলে রাখি আমার এই লেখাটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত। এটার সাথে কারো একমত হতে হবে এমন কোন কথা নেই। আপনার সাথে আমার ধারণা নাও মিলতে পারে। তবে গত কিছুদিন ধরে কিছু মিডিয়ার একচোখা নীতি দেখে অনেকটা বাধ্য হয়ে লিখতে বসলাম। কারণ যারা সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দেন, তারাও দেখি নিজের মতের বাহিরে গিয়ে নিরপক্ষতা বজায় রাখতে পারছেন না। দলীয় কর্মীর মত হয়ে যাচ্ছেন।
যাহোক, আমার কিছু যুক্তি আছে যেটা হয়তো আপনারা মানতে চাইবেনও না। কেউ বা আবার অতি উৎসাহী হয়ে আমার এই লেখা জামায়াতের প্রার্থী জুবায়েরের জন্য প্রচারণার হাতিয়ার বলে চালিয়ে দিবেন। অনেক জামায়াত শিবিরের কর্মী আছেন হয়তো তারাও এই লেখায় আস্ফালন করবেন।
এরজন্য আগেই বলে নেই। যে সাত জন প্রার্থী সিলেট সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তারা অবশ্যই নিজেকে যোগ্য মনে করেই প্রার্থী হয়েছেন। ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু সেটা পরের বিষয়। তাই বলে মিডিয়া তার নীতি ছেড়ে কে জিতব বা কে হারব সেটা আগে থেকেই নির্ধারণ করতে পারে না বলে আমি মনে করি।
এডভোকেট জুবায়ের জিতলে কেন অবাক হবো না?
তার আগে বলে রাখি আমার ধারণা শেষ পর্যন্ত তিনজন প্রার্থীর মধ্যে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কামরান, আরিফ ও জুবায়ের। আজকের লেখাটা মূলত জুবায়েরকে নিয়ে লেখা।
১. প্রথমত, সামনে জাতীয় ইলেকশন। যেভাবে খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচন শেষ হয়েছে তাতে করে বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিজেকে প্রমাণের একটা বড় দায় রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটকে আনতে গেলে নিরপেক্ষতার প্রমাণ তো দেখাতেই হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর আন্ডারে থেকে নির্বাচন করতে হলে এবং বহিবিশ্বকে নির্বাচন স্বচ্ছ দেখাতে গেলে স্থানীয় নির্বাচন বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। এর জন্য আরিফ থেকে জুবায়ের জিতে গেলে বলটা সরকারের দখলেই যাবে। যাতে প্রচার করা যাবে সরকার নিরেপেক্ষ বলেই জামায়াতের প্রার্থীও জিতে নির্বাচনে! বাহিরের লোকের কাছে তখন বিষয়টা বিশ্বাসযোগ্য করা যাবে।
২. সিলেটে বরাবর জামায়াতের একটা ভোট ব্যাংক আছে। সেটা দলকানা যেকেউই স্বীকার করবেন। প্রশ্ন হলো সেটা কত? তর্কসাপেক্ষে ধরে নিলাম, জামায়াতের ভোটার ২৫-৩০ হাজার। যদিও জামায়াতের ভেতরের খবর সেটা ৪৫-৫০ হাজারের বেশি। আপনার স্বীকার করবেন যে, জামায়াত বা শিবিরের কর্মীরা সবাই মোটামুটি শিক্ষিত। যা নিজ নিজ পরিবারে প্রভাব রাখতে পারেন। বিশেষ করে তর্কসাপেক্ষে যদি এই ৩০ হাজার লোক একটা করে ভোট আনে তাহলে সেটা দাড়াঁবে কত? ৬০হাজার! আপনাদের নিশ্চয় জানা আছে , গত সিটি নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধূরী প্রায় এক লাখ ৮ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কথা হলে, এই নির্বাচনে যদি তিনজন প্রার্থীকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ধরলে , প্রায় দুই লাখ ৭৫ হাজার ভোটার রয়েছেন সিসিক নির্বাচনে। গড়ে পাস করতে হলে ভোট লাগবে প্রায় ৯২ হাজার।
৩. আচ্ছা, আপনার বলুন, তাহলে একজন প্রার্থীকে জিততে হলে গড়ে ৪০শতাংশ ভোট পেতে হবে। সেটা তাহলে দাঁড়াবে ১লাখ ১০ হাজার। প্রশ্ন হলো জামায়াত, বিএনপি বা আওয়ামীলীগের কোন রাজনৈতিক দলের কি ৪০ শতাংশ ভোট সিলেটে আছে। আমি বলি না নেই। তাহলে বাকি ভোট কোথা থেকে আসবে? হ্যাঁ, সেটা দিবে আমপাবলিক! যারা বারবার কামরান বা আরিফকে ¯্রােতের টেলায় ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। কখনো কোন রাজনৈতিক দলের নিদিষ্ট ভোটার এরা নয়। জুুবায়ের ৬০ ভোট পেলে বাকি ৪০ হাজার এমনি করেই এসে যাবে ¯্রােতের ঢেউয়ে! আপনি হাসছেন শুনে! হাসুন। কারণ ¯্রােত কোন যুক্তি মানে না।
৪. আরিফুল হকের সাথে উনার দলের বিশাল একটা অংশ নেই। সেটা সবাই জানেন। যারা শেষ পর্যন্ত আরিফকে হারাতে কামরানকে নয়, জুবায়েরকে ভোট দিতে পারেন। কথা থাকে, তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম নয় কেন। সেটাতো আগেই বলে দিলাম, প্রার্থী হিসাবের মাত্র তিনজন। আওয়ামী এন্টী ভোট গুলি আরিফ পাবেন না। পাবেন জুবায়ের।
৫. বেশ জটিল একটা কথা হলো, জামায়াতের কর্মীদের র্দীঘদিনের জমানো ক্ষোভ ভোটের ভ্যালটে ফুটে তোলার কঠিন প্রতিজ্ঞা। মরণ কামড় দিয়ে বিএনপি ততা ২০ দলীয় জোটে নিজেদের অবস্থান দেখিয়ে দেয়ার জন্য এসিড টেস্ট এই সিলেট সিটি নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনে জোটের সাথে হিসাব নিকাশ আদায় করে নিতে সর্বোচ্চ চেস্টা করে যাওয়া। এর জন্য ভোটের হিসাব খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে সিলেটের ২০ দলীয় জোটের বিএনপি ছাড়া অন্যান্য জোট সঙ্গিদের কাছে জুবায়েরের ব্যক্তি ইমেইজ একটা ফ্যাক্টর।
৬. ব্যক্তি ইমেইজে জুবায়ের অনেক এগিয়ে। উচ্চ শিক্ষিত এই মানুষটি অনেক ভোট টানবেন সেটা নিজের ইমেইজ দিয়েই!
৭. মহিলা জামায়াত বড় একটা ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে! অনেকেই হয়তো সেটা জানেন না, সিলেটে মহিলা জামায়াত ও ছাত্রীসংস্থার বিশাল একটি জনশক্তি রয়েছে। যারা জুবায়েরকে জিতাতে ভুমিকা রাখবে।
শেষকথা, সরকারের দৃষ্টি ভঙ্গির উপর সব নির্ভর করছে। সরকার না চাইলে কোন হিসাবই কাজে আসবে না। কামরান ভাই পাস করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে এক্ষেত্রে আরিফুল হক ৩য় হবেন আর জুবায়ের ২য়!!

  লেখকঃ  অনুক্ত কামরুল, পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক । 

Load More Related Articles
Load More In কলাম

Check Also

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে যা বললেন ড. ইউনূস

 এক দুই সহপাঠীর অপঘাত মৃত্যুর প্রতিবাদে স্কুলের শিশুকিশোররা রাস্তায় নেমেছে। রাস্তায় তারা শ…