Home কলাম তারাবিহর সুমিষ্ট স্বাদ পেতে

তারাবিহর সুমিষ্ট স্বাদ পেতে

0 second read
Comments Off on তারাবিহর সুমিষ্ট স্বাদ পেতে
0
213

পবিত্র রামাদান মাস সন্নিকটে! আলহামদুলিল্লাহ্‌! পৃথিবীর সমস্ত মুসলিমদের কাছে এটি একটি সুন্দর মাস। এটি এমন একটি মাস যেই মাসে মহান আল্লাহ তাআলার সাথে আমাদের যোগাযোগ দৃঢ় হয়। গত ১১ মাস আমরা আল্লাহর স্মরণ থেকে যে দূরে ছিলাম তারও অবসান হয়।

আলহামদুলিল্লাহ্‌, আরেকটি রামাদান আমাদের জীবনে আসতে যাচ্ছে। এই মাসে জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং শয়তান শিকল বন্ধী থাকে। আমাদের কৃত ভালো কাজগুলোকে ৭০ বা তার চেয়েও বেশি গুণ বৃদ্ধি করে আমলনামায় লেখা হয়। আর এই মাসে রয়েছে এমন একটি রাত যা কিনা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মাসে মুসলমানদের রাতে তারাবি সালাতের বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। তিনি এটিকে আমাদের জন্য ফরজ (বাধ্যতামূলক) করেন নি।
মুসলিম শরীফে হাদিসে এসেছে,

” যে ব্যক্তি এই বিশ্বাসের সাথে রমজানের রাতে তারাবি সালাত আদায় করবে যে আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করবেন, তবে তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে।”

কখনো কখনো তারাবি কঠিন মনে হতে পারে। আল্লাহর সাথে এই যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন হোক সেটি আপনি চাইতে পারেন, যদিও এই সালাত দীর্ঘ হয়ে থাকে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এবং আরবি ভাষা না জানার কারণে ইমাম কি পড়ছেন সে ব্যাপারটি কষ্টকর হতে পারে। যাইহোক, আমরা কিছু পয়েন্ট তুলে ধরবো যা কিনা আপনার কাছে তারাবি সালাতকে কিছুটা হলেও সহজ ও মধুর করে তুলবে ইনশাআল্লাহ আমাদের বিশ্বাস।

 হাল্কা ইফতার করুন। এতে আপনার স্টমাক (পেট) চাঙা থাকবে, ফলে ঘুম আসবে না। সারাদিন রোজা রাখার পর রকমারি ইফতার দেখলে আমাদের অনেকেরই মাথা ঠিক থাকে না। এই সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। তারাবি থেকে ফিরে এসে আবার খান প্রয়োজনে কিন্তু যাবার আগে বেশি পানাহার আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলবে নিশ্চিত জেনে রাখুন।

 সঠিকভাবে ওযু করুন। ওযুর প্রতি মনোযোগী হোন। চিন্তা করুন যে, বিন্দু বিন্দু ওযুর পানিতে আপনার কৃত পাপগুলো ধুয়ে যাচ্ছে। আপনার পরিধেয় মোজাগুলো না খুলে মাসেহ করলেও চলবে কিন্তু চেষ্টা করুন পানি দ্বারা ধোওয়ার।

 কেউ আমাদের বলে নি যে আলখাল্লা বা সালোয়ার কামিজ পড়তে হবে সালাতে। বরং আরামদায়ক ও শালীন এবং শীত গ্রীষ্ম মাথায় রেখে পোশাক পড়ুন।

 পুরুষরা সুগন্ধি ব্যবহার করুন। এতে আপনার নিকট যে ব্যক্তি বসবে তার কষ্ট (ঘামের বা অন্য কোন দুর্গন্ধ) হবে না।
প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা:) নিজে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন, সুতরাং পুরুষদেরও এটি ব্যবহার করা উচিৎ।

 গ্রিন টি (সবুজ চা) পান করুন, তারাবি সালাতের অন্তত ৩০ মিনিট পূর্বে। এটি প্রাকৃতিকভাবে আপনাকে চাঙা রাখবে। গ্রিন টি আপনার নি:শ্বাসকে রাখবে দুর্গন্ধমুক্ত। আপনার পাশে যিনি সালাত আদায় করবেন তিনিও আপনার মুখের দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাবেন।

 মসজিদে এসে আপনার গাড়ি পার্কিং নিয়ে অযথা দু:শ্চিন্তা করবেন না। সালাতে দাঁড়িয়ে আপনি যদি এই চিন্তায় মগ্ন থাকেন যে আমার গাড়িটি ভালো জায়গায় পার্ক করা হয় নি তবে নামাজে মনোযোগী হতে পারবেন না। তারাবি শুরুর বেশ কিছু আগে মসজিদে আসুন। তাহয়িয়াতুল মসজিদ পড়ুন সময় থাকলে। অনেককেই দেখা যায় তারাবি নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন অথচ এশার সালাত ফরজ ইবাদত। মনে রাখবেন, ফরজ ইবাদত অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আওয়াল ওয়াক্তে (ওয়াক্তের সময় হওয়ার সাথে সাথে) আদায় করা শ্রেষ্ঠ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।

 পুরুষরা নারীদের সামনে থাকবেন এবং মহিলারা দাঁড়াবেন পিছনের কাতারে। জানি, অনেকেই হয়ত মসজিদে আগে এসে ফ্যানের নিচের জায়গাটিতে বসার চেষ্টা করেন। কিন্তু এটা ঠিক না। নিয়ম হল আগে এলে কাতার পূর্ণ করা, কোন ফাঁকা স্থান না রাখা।

 সম্ভব হলে হৃদয়ের সমস্ত হিংসা, বিদ্বেষ, ঈর্ষা ধুয়ে মুছে মনকে পরিষ্কার করে সালাতে আসুন। হয়তো আপনার পাশেই কেউ ফোনে জোরে কথা বলছেন। আপনার অসুবিধা হচ্ছে। মাহে রমজান মাস বছরের এমন একটা সময় যখন আপনাকে ক্ষমা করা শিখতে হবে।

“তারা যেন তাদের ক্ষমা করে, তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ কর না যে আল্লাহ্‌ তোমাদের ক্ষমা করে দেন?” (সুরা আন নূর: ২২)

 আপনি যদি কোরআন সম্পর্কে খুব ভালো না জানেন তবে অন্তত চেষ্টা করুন কোন সুরাটা আজকে পড়ানো হচ্ছে সেটা জানার। ইমান সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন অথবা আপনার পাশের কাউকে। বা এমন কাউকে যিনি নিজে কোরআন নিয়ে আসছেন। এটা আপনাকে তারাবি সালাতের প্রতি আরো মনোযোগী হতে সাহায্য করবে।

 আপনার যদি আরবি ভাষাজ্ঞান দুর্বল হয় তবে অতি প্রচলিত কিছু শব্দ যা কোরআনে বারবার এসেছে সেগুলো শিখে নিন। এগুলো আপনার মনকে নাড়া দিবে ইনশাআল্লাহ। যেমন; দয়া (রাহমান), ক্ষমাশীল (গাফুর), বিশ্বাস (আমিনু), বেহেশত (জান্নাত), দোজখ (জাহান্নাম), শাস্তি (আযাব)। এছাড়া আরো কোন শব্দ হতে পারে যা আপনার হৃদয়কে আন্দোলিত করেছে।

 এই মাসে ইস্তিগফার করুন বেশি বেশি। সালাতে দাঁড়ান পরিষ্কার একটি মন নিয়ে। আল্লাহর কাছে চান তিনি যেন আপনার হৃদয়কে তাঁর ভয়ে ভীত করেন এবং আপনার দুই চোখকে তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সময় অশ্রুসিক্ত করে দেন। অনেককে দেখা যায় অন্তরে আল্লাহ ভীতি (তাকওয়া) নেই। ক্ষমা চায় কিন্তু আল্লাহর ভয়ে অন্তর কাঁপে না। আল্লাহ যেন আমাদের এই অবস্থা থেকে রক্ষা করেন।

 মনকে নরম করে এমন আলোচনা করুন। সালাতে যাবার পথে ইসলাম নিয়ে কারো সাথে সংক্ষিপ্ত কথা বলুন। কথা বলার সংগী না থাকলে ইসলামিক স্কলারদের লেকচার শুনুন। এতে করে বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর পূর্বে আপনার মন বিগলিত হবে।

 ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়াদারির কথা কিছু সময়ের জন্য হলেও ভুলে যান। আপনার সেল ফোনটির সুইচ অফ করুন। অফিস, বাসা, বাচ্চার স্কুল, কলেজ, কাজ, সমস্যা, ফেইসবুক, টুইটার, ইমেইলের কি রিপ্লাই দিবো ইত্যাদি সব ভুলে কিছুক্ষণ রব্বুল আলামিনের ধ্যানে মগ্ন থাকুন। মোবাইলের রিংটোন অফ করুন, এমনকি ভাইব্রেশনও। ভাইব্রেশন মোডে থাকলে আপনার মনে এই চিন্তা আসা খুব স্বাভাবিক যে, কে হতে পারে? কেন ফোন দিচ্ছে? ইত্যাদি নানা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন। সুতরাং মিটিং মোডে বা অফ রাখুন।

 কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হোন। আল্লাহর সামনে এমনভাবে দাঁড়ান যেন আপনি একজন ভিখারি। যার চাহিদা অনেক। যা চাইছেন তা না নিয়ে যাবেন না। এভাবে চাইতে থাকুন। বিনয়ের সাথে চান। বারবার দুয়া করুন অর্থাৎ চাওয়া অব্যাহত রাখুন।

 আমরা জানি পবিত্র কোরআন নাযিল হয়েছিল হেরা পর্বতে। কঠিন শিলারাশি দ্বারা গঠিত বিশাল পাহাড় মহান রবের ভয়ে কেঁপে উঠেছিল। কোরআন পড়ুন, মহান আল্লাহ্‌কে জানুন। এটি সেই মহাগ্রন্থ যেখানে আপনার আমার আমাদের সকলের জন্য মেসেজ আছে। সময় পেলেই কোরআন পড়ুন। জ্যামে বসে আছেন? স্মার্ট ফোনে ইন্সটল করা কোরআনের তাফসির, অনুবাদ পড়ুন।

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, বরকতময় এই পবিত্র মাসের প্রতিটি মূহুর্ত উপভোগ করুন। আমরা যেন নফল ইবাদত তারাবিকে কষ্টকর মনে না করি। তিনি যেন এটিকে আনন্দদায়ক করে দেন এবং আমাদের সকলকে কবুল করে নেন। আমিন!

অনুবাদঃ সারাহ ইসলাম

Load More Related Articles
Load More In কলাম

Check Also

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে যা বললেন ড. ইউনূস

 এক দুই সহপাঠীর অপঘাত মৃত্যুর প্রতিবাদে স্কুলের শিশুকিশোররা রাস্তায় নেমেছে। রাস্তায় তারা শ…