Monday , 23 October 2017
advertise
সর্বশেষ
তোপ থেকে বাঁচতে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর ‘জামায়াত ফরমুলা’!         ইতালীয় তরুণীকে বাঁচিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় এক বাংলাদেশি         ‘ইক্বামাতে দ্বীন’র বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক প্রপাগান্ডার আসল রহস্য !         রাস্তায় প্রসব ও নবজাতকের মৃত্যু হাসপাতালে, সেবা না পাওয়া অন্ত:স্বত্ত্বা নারীকে কেন ক্ষতিপূরণ নয় : হাইকোর্ট         এস কে সিনহা ও সরকার, কে কী হারাল         বড়লেখার মাদ্রাসা ছাত্রী তামান্না স্কলারশীপ পেলেন পোল্যান্ডের পুজানা ভার্সিটির         ফাঁসির দড়ি থেকে রাজনীতির মাঠে         মিয়ানমারে ২৮ টি গণকবর উদ্ধার         বার্মিজ সেনাদের ধর্ষণের শিকার নারীরা কাঁদছেন নীরবে গুমরে         প্রশ্নবানে জর্জরিত পাশা: অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনি সংবাদ সম্মেলনে        
শাহিনুর পাশার লংমার্চ নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন ইকবাল মাহমুদ

শাহিনুর পাশার লংমার্চ নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন ইকবাল মাহমুদ

বিশেষ রিপোর্টঃ  জমিয়ত নেতা শাহিনুর পাশা চৌধুরীর লং মার্চ নিয়ে রিতিমত ভয়ংকর তথ্য দিয়ে ফেইস বুকে এক বিশাল পোস্ট দেন ৭১ টিভির সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল মাহমুদ । জমিয়ত নেতার লংমার্চ নিয়ে প্রতারণার নানা তথ্যের স্পষ্টতা ফুটে উঠে তাঁর পোষ্টে । সাংবাদিক ইকবাল মাহমুদের পোস্ট পড়ে সিলেট তথা সারা দেশ জুড়ে শুরু হয় সমালোচনা । শত শত ধিক্কার কমেন্ট আর শেয়ারের মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল সমালোচনায় ফুঁসে অনলাইন ইউজাররা । নিম্নে সেই আলোচিত প্রতারণা নিয়ে আলোচিত সেই পোস্টটি দ্যা বিএনএন পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল ।

।। রোডমার্চের নামে ভয়ংকর প্রতারণাঃ ধৈর্য্য ধরে পড়ুন ।।
হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা’র ব্যানারে সিলেট-টেকনাফ রোডমার্চ। উদ্দেশ্য, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ । পক্ষকাল ধরে ব্যাপক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে চলছিলো প্রচারণা। চলেছে অনুদান সংগ্রহ। কোটি টাকার বাজেট হয়েছে।কর্তৃপক্ষই বলেছে দেশ-বিদেশ থেকে এ অনুদান সংগ্রহ হয়েছে। শরনার্থীদের জন্য ত্রান, না রোড মার্চ- কোনটা বেশি জরুরী, এমন প্রশ্নের চেয়ে আরো ভয়ংকর খবর এখন সামনে। সেটি রীতিমত প্রতারণা, ভন্ডামি। রোডমার্চের জন্য আসা কোটি টাকার অনুদান জায়েজ করতে অভিনব এক কূটকৌশল। এ কৌশলের ধূর্ততার কাছে চাপা পড়েছে মানবিকতা। ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রচিত হয়েছে এক অধর্মের ঘৃন্য উপাখ্যান। এ উপাখ্যানের নায়ক ধর্মীয় লেবাসধারী একটি গোষ্টি।
রোডমার্চের আগের দিন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা’র চেয়ারম্যান শাহিনূর পাশা চৌধুরী। দাবী করেন, প্রশাসন অনুমোদন দিয়েছে রোডমার্চের। দুই শতাধিক গাড়ি থাকবে বহরে। খরচ হবে কোটি টাকার ওপরে।
বৃহস্পতিবার নির্ধারিত স্থান হুমায়ূন রশীদ চত্বর থেকে ৬৮টি গাড়ির বহর নিয়ে শুরু হয় রোডমার্চ । কয়েক কিলোমিটারের মাথায় রশিদপুর যাওয়ার আগেই রোডমার্চ থামিয়ে দেয় পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, রোডমার্চের কোন প্রশাসনিক অনুমোদন নেয়া হয়নি। ত্রান বিতরণের জন্য নেয়া হয়েছে অনুমোদন।এত গাড়ি, এত মানুষ; কিন্তু ত্রান কই? খোঁজা শুরু হলো। ৬৮টি গাড়ির মধ্যে ৬৭টিতেই শুধু মানুষ, একটি গাড়ির পেছন দিকে পাওয়া গেলো অল্প কিছু ত্রানের প্যাকেট। পুলিশ সেই গাড়িটি ছেড়ে দেয়। বাকি সবাইকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।
সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের মূখপাত্র জেদান আল মূসা জানিয়েছেন, ত্রান বিতরণের কথা বলেই পুলিশের কাছ থেকে অনুমোদন চাওয়া হয়েছিলো। মানবিক কারণে সে অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবারের রোডমার্চের বহরে ত্রাণ ছিলো গৌণ। সঙ্গত কারণেই তা আটকে দেয়া হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে রোডমার্চের অনুমোদন না পেয়েও অনুমোদন পাওয়ার দাবী কেন করেছিলেন উদ্যোক্তারা? সেখানেও লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর প্রতারণার কৌশল। অনুমোদন না পাওয়ার খবর চাউর হলে সংগৃহিত বিশাল অংকের অনুদানের টাকা ফেরত চাইতে পারেন দাতারা।তাই যেভাবেই হোক একটি রোডমার্চের শোডাউন না করলে যে নয়। আর তা করতে পারলেই কোটি টাকা জায়েজ। সংবাদ সম্মেলনে শাহিনূর পাশা চৌধুরী দাবী করেছিলেন, দুই শতাধিক গাড়ি থাকবে রোডমার্চের বহরে। অথচ, মাত্র ৬৮টি গাড়ি নিয়েই শুরু হয় যাত্রা। দুই’শ গাড়ির জন্য কোটি টাকার বাজেট হয়েছিলো। তাহলে গাড়ি ৬৮টি কেন? আর বহরে যোগ দেয়া গাড়িগুলোর মান দেখে যে কেউ বুঝতে পারবেন এ ধরনের লক্কর-ঝক্কর গাড়ি নিয়ে সিলেট-টেকনাফ দুই হাজার কিলোমিটারের (যাওয়া-আসা) সফর সম্ভব নয়। এর মানে কি? মানে, উদ্যোক্তারা নিজেরাই জানতেন, রোডমার্চ সফল হবে না। তাদেরকে আটকে দেয়া হবে, যেহেতু অনুমোদন নাই।কিন্ত এতদিনে সংগৃহিত টাকা হজম করতে হবে যে। তাই কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে কিছু গাড়ি নিয়ে রোডমার্চ শুরুর একটি মহড়া করা তাদের জন্য অনিবার্য ছিলো।হয়েছেও তাই।
আরো মজার তথ্য হলো, রোডমার্চের জন্য যেসব গাড়ি রিজার্ভ করা হয়েছিলো সেগুলোকে টেকনাফ যাওয়ার জন্য রিজার্ভ করা হয়নি। কয়েক ঘন্টার জন্য তাদের রিজার্ভ করা হয়েছিলো।উদ্যোক্তা সংগঠনের এক কর্মকর্তাই জানিয়েছেন এ তথ্য। তিনি জানান, প্রতিটি গাড়ি ৩৫০০ টাকা করে ভাড়া করা হয়। আর যেসব মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা রোডমার্চে যোগ দিয়েছিলেন তাদেরকে শেরপুর পর্যন্ত যাওয়ার কথা বলে আনা হয়েছে বলেও জানান এই নেতা।
এখন হিসেব করুনতো.. এই ৬৮টি গাড়ির ভাড়া কত হতে পারে? দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকা। প্রচার-প্রচারণাসহ সব মিলিয়ে ধরুন আরো দুই লাখ টাকা খরচ। অর্থাৎ পাঁচ লাখের মধ্যেই মামলা খতম। এক কোটি থেকে পাঁচ লাখ বাদ দিলে কত বাকি থাকে? ৯৫ লাখ টাকা।
মাশাআল্লাহ ! এমন ইস্যূ যদি বছরে দুয়েকবার আসে, তাহলে আগামি নির্বাচনের খরচ যোগাড় হয়ে যাবে অনায়াসেই।