Monday , 23 October 2017
advertise
সর্বশেষ
তোপ থেকে বাঁচতে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর ‘জামায়াত ফরমুলা’!         ইতালীয় তরুণীকে বাঁচিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় এক বাংলাদেশি         ‘ইক্বামাতে দ্বীন’র বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক প্রপাগান্ডার আসল রহস্য !         রাস্তায় প্রসব ও নবজাতকের মৃত্যু হাসপাতালে, সেবা না পাওয়া অন্ত:স্বত্ত্বা নারীকে কেন ক্ষতিপূরণ নয় : হাইকোর্ট         এস কে সিনহা ও সরকার, কে কী হারাল         বড়লেখার মাদ্রাসা ছাত্রী তামান্না স্কলারশীপ পেলেন পোল্যান্ডের পুজানা ভার্সিটির         ফাঁসির দড়ি থেকে রাজনীতির মাঠে         মিয়ানমারে ২৮ টি গণকবর উদ্ধার         বার্মিজ সেনাদের ধর্ষণের শিকার নারীরা কাঁদছেন নীরবে গুমরে         প্রশ্নবানে জর্জরিত পাশা: অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনি সংবাদ সম্মেলনে        
প্রশ্নবানে জর্জরিত পাশা: অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনি সংবাদ সম্মেলনে

প্রশ্নবানে জর্জরিত পাশা: অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনি সংবাদ সম্মেলনে

সিলেট :  নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে অবশেষে তড়িগড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করলেন ‘রোডমার্চ’ নিয়ে আলোচিত জমিয়ত নেতা মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী। বিতর্কের জবাব দিতে গতকাল রোববার নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নবানে জর্জরিত শাহীনূর পাশা চৌধুরী বারবারই সংবাদ সম্মেলনকে সৌজন্যমূলক বলে স্মরণ করিয়ে দেন। আর এভাবেই কৌশলে উত্তর এড়িয়ে যান আলোচিত অনেক প্রশ্নের। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য আপনাদের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাতের উদ্দেশ্যেই এই সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলনে ‘হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা’ নামক সংগঠনের চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, মূলত মায়ানমারের নির্যাতিত মুসলমানদের প্রতি বিশ্ব বিবেক জাগ্রত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ রোডমার্চ কর্মসূচীর ডাক দেওয়া হয়। যেখানে ত্রাণের বিষয়টি মুখ্য ছিল না। রোর্ডমাচই ছিল কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, গত আগস্ট মাসের ২৫ তারিখ থেকে মিয়ানমারের সেনা ও বৌদ্ধরা যখন রোহিঙ্গা মুসলিম ভাই-বোন এমনকি হিন্দুদের উপর অতীতের নির্যাতনের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে বর্বরোচিত হত্যা ও নির্যাতন শুরু করে, তখনই দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের সমন্বিত করে একটি সার্বজনীন রোডমার্চ কর্মসূচি গ্রহণ করা ছিলো সময়ের দাবি। তিনি বলেন, কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সিলেট টু টেকনাফ রোডের আওতাভূক্ত প্রায় ১০টি জেলা ও রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ সকল শ্রেণিপেশার লোকদের নিয়ে পৃথক পৃথক বৈঠক করা হয়। একাধিক সফল বৈঠকে পর এ কর্মসূচির প্রতি দেশ এবং দেশের বাইরে থাকা সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের নৈতিক সমর্থনের মাধ্যমেই একটি সফল রোডমার্চ পালনের সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যথাযথ অনুমোদন প্রদানের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২১ মার্চ শনিবার রোডমার্চের বিশাল গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, রোডমার্চ পরবর্তী এ ঘটনায় আর্থিক অসঙ্গতি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ একটি প্রিন্ট পত্রিকায় বিষয়টি তুলে ধরে যেভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিতান্তই দুঃখজনক। এ সময় তিনি বলেন, কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিলো- ‘আন্তর্জাতিক মহলে বিশ্ব বিবেক জাগ্রত করে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান’। সুতরাং এই রোড মার্চে যারা যেসব এলাকা থেকে হাজির হয়েছিলেন, তারা প্রত্যেকেই স্ব স্ব উদ্যোগে, রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে রোড মার্চ বহরে এসে যুক্ত হন। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শাহীনূর পাশা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, রোডমার্চ আহবানে সারা দিয়ে দেশ ও বিদেশের দরদী জনতা সর্বসাকুল্যে ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৭ টাকা সংগঠনে জমা দান করেন। যার মধ্যে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখায় যৌথ একাউন্টে ছিলো ৭৬ হাজার ৫শত ৭টাকা। এ সময় তাদের নামের তালিকাও প্রকাশ করেন তিনি। তবে যৌথ একাউন্টে যুক্ত থাকা অপর দুইজন কর্নেল (অব.) আতাউর রহমান পীর ও মাওলানা তৈয়্যবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে, আতাউর রহমান পীর একাউন্টে স্বাক্ষর করেননি যা বিজয়ের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে প্রকাশ হয়েছে। এদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলেও নিরুত্তর ছিলেন তিনি। মিডিয়ায় খরচের খাত প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে জনাব পাশা বলেন, মিডিয়া সমন্বয়কারীর দায়িত্বে ছিলেন রুহুল আমিন নগরী। কিন্তু এসময় মিডিয়া সমন্বয়কারীও সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। তাই মিডিয়ার জন্য খরচ সম্পর্কিত ব্যাপারটিও অস্পষ্ট থাকে। নিজের নির্বাচনী তহবিল গঠন, সর্বোপরি ভাটা জনপ্রিয়তায় জোয়ার তুলতে এ আয়োজন কী-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় অনুমোদন সাপেক্ষে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আমার মনোয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। সুতরাং জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে-এ অভিযোগটি অবান্তর। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মনিটরিং সেলের পক্ষ থেকে কোন গাড়ি রোড মার্চের দিন ভাড়া করা হয়নি। দু’সপ্তাহ গণসংযোগের জন্য বিভিন্ন এলাকায় সুধীদের গাড়ি নিজ উদ্যোগে ভাড়া করে নিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছি। এখন কেউ যদি তার সাধ্যানুযায়ী ১০/১৫ কিলোমিটার গিয়ে ফিরে আসে, তাহলে তার দায় সংগঠনের নয়। তিনি বলেন, টেকনাফ পর্যন্ত যাওয়ার জন্য যথারীতি প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়েছিলাম। পথিমধ্যে বাধাগ্রস্থ হয়ে রোড মার্চ সমাপ্ত করতে হয়েছে। রোডমার্চ এবং ত্রাণ, উভয় বিষয়টি তুলে ধরে প্রশাসনিক অনুমতি চাওয়ার প্রমাণ থাকলেও তা অস্বীকার করে শাহীনূর পাশা বলেন, “আমরা ত্রাণ বিতরণের অনুমতি চাইনি”। এসময় বিজয়ের কণ্ঠ’র প্রতিনিধি মোবাইলে রেকর্ডকৃত বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও উত্তর এড়িয়ে যান পাশা। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে এ সময় প্রশ্ন করেন, যথাক্রমে দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো প্রধান কবির আহমদ, দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ’র বার্তা সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) দেবব্রত রায় দিপন, বাংলা নিউজ ২৪ এর সিনিয়র করেসপনডেন্ট নাসির উদ্দিন, দৈনিক জালালাবাদের কামরুল ইসলাম, খালেদ আহমদ, ভোরের কাগজের ইয়াহিয়া মারুফ ও অনলাইন প্রেসক্লাবের সাইফুর রহমান তালুকদার প্রমুখ। সংগঠনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অন্যতম সদস্য মাওলানা আলী নূর, মাওলানা কবির আহমদ খান, মাওলানা মোসাদ্দিক আহমদ, আকিকুর রহমান পীর, মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, সৈয়দ উবায়দুর রহমান প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ পত্রিকায় “কথিত রোডমার্চ এবং…” শিরোনামে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশের পরই টনক নড়ে সংগঠনটির চেয়ারম্যান শাহীনূর পাশা চৌধুরীর। প্রকাশিত সংবাদের পর অনেকেই এ বিষয়ে পত্রিকা অফিসে ফোনে অভিনন্দন জানিয়ে আরো নতুন তথ্য যুক্ত করেন। এরপর থেকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা নয়, অপরাধ যেনো চাপা দিতেই তড়িগড়ি করেই পাশা সাহেবের এই সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলনে তাই অনেক প্রশ্নের উত্তরে কৌশলী পাশা সাহেব অনেকটাই নিরস হয়ে উঠেন। অনেকের মন্তব্য ছিলো, মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে কয় লক্ষ টাকার অনুদান আসে। সংবাদ প্রচারের পর সকল দেশে এবং বিদেশে থাকা সকলের প্রশ্ন থেকে নিজেকে আড়াল করতেই অপ্রস্তুতভাবে এই সংবাদ সম্মেলন। গত ৬ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া একটি সংগঠনের পক্ষে এতো ঘটা করে রোডমার্চ আয়োজনের নেপথ্য কারণ এখন গোটা শহরে আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত। তাছাড়া, সদ্যপ্রসূত একটি সংগঠনের পক্ষে আর্থিক লেনদেন কালেকশন করাও কতোটুকু যুক্তিযুক্ত ছিলো-এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।

 

সুত্রঃ  নিউজটি  দৈনিক বিজয়ের কন্ঠে আজকে প্রকাশিত হয়েছে ।